1. admin@sonerbanglanews24.com : admin :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স এর মেট্রো প্রকল্পের ম্যানেজারদের ট্রেনিং এবং সম্মেলন অনুষ্ঠিত ২য় ধাপে ৮৪৮টি ইউপি ভোট ১১ই নভেম্বর, ভোট হবে ইভিএম এর মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়ার সকল পয়েন্ট থেকে ট্রেজারী ফি সহ বিভিন্ন সরকারি ফি জমা দেওয়া যাবে ধানমন্ডিতে ‘আমাদের কুড়েঘর’ এর উদ্দোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম(আইআইইউসি)এর নতুন প্রো-ভিসি ড. মাশরুরুল মাওলা ঝিকরগাছা নির্মানাধীন ব্রিজ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও জনগনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন আবারও ব্যাংক থেকে লোন নিচ্ছে সরকার যশোরের খাজুরায় নিয়ন্ত্রণহীন রোলার পুকুরে, কিশোর নিহত যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদূর রহমান

যশোর অঞ্চলে ফুলচাষীদের ক্ষতি ৩০০ কোটি, বিশেষ প্রনোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১
  • ১৮৪ বার পঠিত

ঝিকরগাছা প্রতিনিধিঃ দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ফুল চাষ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফুলের বাজার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার। দেশের চাহিদার ৮০ ভাগ ফুল যশোরের গদখালী থেকে সরবরাহ করা হয়। করোনার কারণে গত কয়েক মাস ফুল বিক্রি করতে না পারায় ৪৫০ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে শুধু যশোর অঞ্চলে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে৷ ফুল বিক্রি কমে যাওয়ায় যশোরের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুর রহিম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান মহামারি করোনায় সম্ভাবনাময় ফুল সেক্টরের বাস্তব অবস্থাঃ

ফুল বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর হিসাবে খ্যাত বিগত কিছু বছর ধরে, প্রতি বছর ফুলের বাজারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ২০১৯ সালে দেড় হাজার কোটি টাকার ফুলের বাজার ছিল এবং ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে ১৬০০ কোটি টাকার বাজারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও হঠাৎ মহামারি করোনায় ফুলের বাজারে চরম ধস নামে, তাতে করে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭৫০ কোটি টাকার ফুল কম বিক্রি হয়। তাতে ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সারাবছরই ফুল বিক্রি হয় কিন্তু বছরে কয়েকটি অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে সারাদেশের ২০ হাজার কৃষক ৬ হাজার হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফুল উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে উঠে তেমনি গত করোনার কারনে, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফুলের একটি নতুন বাজার সংযোজন হয়। ফুল সেক্টরের প্রস্তুতিও ছিল কিন্ত করোনায় শেষ পর্যন্ত ২৬ শে মার্চ, দুইটি ঈদ ও সর্বশেষ ১৪ই এপ্রিল ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কোন ফুল বিক্রি হয়নি। এছাড়া চলতি বছরে করোনায় পুনরায় যে ক্ষতি হয়েছে তাতে ফুল সেক্টর দিশেহারা যার কারনে কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয়নি। গত ১৬ই ডিসেম্বর, ১লা জানুয়ারি, বসন্ত দিবস, ভালোবাসা দিবসে কিছুটা ফুলের বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল কিন্তু সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ফুলের বাজার অন্যান্য বছরের তুলনায় খুবই খারাপ ছিলো। ৩০ লক্ষ মানুষের পরস্পর জীবন জীবিকায় নির্ভরশীল যে ফুল সেক্টর বর্তমান করোনায় ফুলের বাজার চালু থাকলেও বেচা বিক্রি তলানীতে, যার কারণে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, স্বাভাবিক অবস্থা থেকে প্রায় ৪০-৫০% ফুলের বাজার কমে গেছে। সেইভাবে কৃষকের উৎপাদিত ফুলের জমি সংকোচিত হয়েছে। তবে ফুল চাষ ছেড়ে কৃষক সম্পূর্ণ রুপে অন্য চাষে যায়নি, হয়ত ফুলচাষের পাশাপাশি টিকে থাকার স্বার্থে কিছু জমিতে সবজি, ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করছে। আবার কিছু ফুল আছে যা একবার রোপণ করলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়, কিছু এমনও ফুল আছে যা রোপনের ৪/৫ মাসে শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ফুলের বাজার যে অবস্থায় যাক না কেন দেশ স্বাভাবিক হলে ৪/৫ মাস সময়ে ফুলের বাজার পুনরায় ঘুরে দাড়াতে সময় লাগবে না।

গদখালীর পানিসারা ও হাড়িয়া ফুল মোড়ের স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ফুল মোড়ে বিশেষ দিবস সামনে রেখে ১৮-২০টি দোকান বসে। ১০ বছর ধরে দোকানগুলো বসছে। বিভিন্ন দিবসের আগে ফুলের দোকানগুলোতে মানুষের ঢল নামে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ফুলের দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন এখানে দোকান আছে মাত্র ৪টি। এগুলোতেও বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ফুলচাষিদের সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম। তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এই ফুলকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২০ হাজার চাষি ফুল চাষ করেন। এর মধ্যে কেবল যশোরেই প্রায় ১০ হাজার ফুলচাষি। ফুলচাষিদের প্রায় ৭০ ভাগ বর্গাচাষি। করোনাভাইরাস ও আম্পানে এই খাতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ৫০০ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনার ঋণ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের ফুল চাষের খরচ বিবেচনায় সহজ শর্তে কৃষি প্রণোদনার ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। আর সেটা দিতে না পারলে এই খাত বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ সোনার বাংলা নিউজ ২৪
কারিগরি কালের ধারা ২৪