1. admin@sonerbanglanews24.com : admin :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স এর মেট্রো প্রকল্পের ম্যানেজারদের ট্রেনিং এবং সম্মেলন অনুষ্ঠিত ২য় ধাপে ৮৪৮টি ইউপি ভোট ১১ই নভেম্বর, ভোট হবে ইভিএম এর মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়ার সকল পয়েন্ট থেকে ট্রেজারী ফি সহ বিভিন্ন সরকারি ফি জমা দেওয়া যাবে ধানমন্ডিতে ‘আমাদের কুড়েঘর’ এর উদ্দোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম(আইআইইউসি)এর নতুন প্রো-ভিসি ড. মাশরুরুল মাওলা ঝিকরগাছা নির্মানাধীন ব্রিজ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও জনগনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন আবারও ব্যাংক থেকে লোন নিচ্ছে সরকার যশোরের খাজুরায় নিয়ন্ত্রণহীন রোলার পুকুরে, কিশোর নিহত যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদূর রহমান

বর্ষপূর্তির আগেই ৪৭ কোটি টাকার বাঘারপাড়া-কালিগঞ্জ সড়কে ভাঙন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ১০৪ বার পঠিত

এক বছরও শেষ হয়নি সড়কের প্রশস্ত ও মজবুতিকরণের কাজ। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪৭ কোটি টাকা। এরই মধ্যে সড়কের পাশ ধসে পড়ছে। সড়কজুড়ে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটল। অনেক স্থান দেবে গেছে। সেইসাথে বৃষ্টির পানি বেঁধে থাকছে সড়কের কয়েকটি স্থানে।

এটি হচ্ছে যশোরের বাঘারপাড়া-রায়পুর-খাজুরা-কালিগঞ্জ সড়ক। ৩৩ কিলোমিটার সড়কের বাঘারপাড়ার অংশে ১৯ কিলোমিটার। বাকি ১৪ কিলোমিটার ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ অংশে। গত বছরের ৩০ জুন মাসে সড়কটির প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণসহ ওভারেল কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর থেকে বাঘারপাড়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ-খাজুরা-রায়পুর-বাঘারপাড়া সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণসহ ওভারেল কাজ করা হয়। সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৯ কিলোমিটার ৩৬৩ মিটার এবং প্রশস্ত ৫ দশমিক ৫ মিটার। ৪৭ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৩ টাকা ব্যয়ে যশোরের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিরিয়ারিং লিমিটেডের মো. মইনউদ্দিন (বাঁশি) সড়কটির কাজ করেছেন। ২০১৯ সালের ২৭ মে শুরু হয়ে ২০২০ সালের ৩০ জুন সড়কটির কাজ শেষ হয়।

সরেজমিনে সড়কটিতে দেখা গেছে, সড়কটির দুই পাশে অন্তত ১৫-২০ জায়গায় মাটি ধসে গেছে। এর মধ্যে খদ্দবন গ্রাম স্কুল ও ভদ্রডাঙ্গা ইটভাটার সামনে, চন্ডিপুর আরামবাগের মোড়, ভাতুড়িয়া মোড়, মাঝিয়ালি যাত্রীবাহী ছাউনির পাশে, জহুরপুর কদমতলা বাজারের পূর্ব পাশে সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি ধসে গেছে। বেতালপাড়া সড়কে প্রবেশের মুখে পাড়সহ সড়কটি ভেঙে বড় সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। শালবরাট কালীমন্দিরের পাশে এবং বিল জলেশ্বরে ঢোকার জায়গার সড়ক ভেঙে গেছে। সম্পূর্ণ সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ফাটলের মধ্যে পিচ ঢেলে দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। ভাঙা অংশ থেকে কিছুটা নিচের দিকে লোহার তৈরি তেলের ড্রাম কেটে লম্বা অংশ মাটিতে বাঁশ পুঁতে তার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ওই জায়গায় মাটি ফেলে সড়কের ধস রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ সময় কথা হয় তিনটি গ্রামের অন্তত ১০ জনের সাথে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, এলাকার বেশিরভাগ মাটি বেলে। সড়কটি প্রশস্ত করার সময় ঠিকাদার মাটি কাটার যন্ত্র (এস্কাভেটর) দিয়ে সড়কের একেবারেই পাশের মাটি কেটে সড়কে দিয়েছেন। এতে সড়কের ঢালের গোড়ার দিকের মাটি আলগা হয়ে গেছে। এজন্য বৃষ্টিতে গোড়ার মাটি সরে সড়কের পাশ ভেঙে পড়ছে।

তারা জানান, সড়কে অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিকমতো বালু দেওয়া হয়নি। এজন্য সড়কের কয়েকটি স্থান দেবে গেছে। বেশ কয়েকটি জায়গা উঁচু-নিচু হয়ে আছে। বর্ষায় নিচু জায়গাগুলোতে পানি বেধে যাচ্ছে। ঠিকমতো কাজ না করায় সড়কে অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। পিচ গলিয়ে ওই ফাটলগুলো ভরাট করা হচ্ছে। রোদে পিচ গলে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না।

উপজেলার জহুরপুর গ্রামের আলী হায়দার টফি বলেন, সড়কের অবস্থা ভালো না। তড়িঘড়ি করে সড়কটি করা হয়েছে। ঠিকমতো মাল-ম্যাটিরিয়ালস দেওয়া হয়নি। সড়কের পাশের মাটি মেশিন দিয়ে খাড়া করে কেটে সড়কে দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কটির অন্তত ২০ জায়গা ভেঙেচুরে পড়েছে। অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কটির কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়ে আছে। ভেঙে যাওয়া জায়গাগুলো বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টিতে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কোনো কথা শোনেননি।

শালবরাট গ্রামের ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আমরা সড়কের পাশের মাটি কাটতে দেইনি। অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনে ঠিকাদারকে দিয়েছি। কিন্তু খুব খারাপ ভাবে সড়কটির কাজ করা হয়েছে। সড়কের মাঝে দেবে গেছে। অনেক জায়গা উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। একটু বর্ষা হলে পুরো সড়কটি পানিতে ভরে থাকে। সড়কটি দিয়ে চলাচল করা যায় না।

বাঘারপাড়া গ্রামের সুজিত দেবনাথ বলেন, সড়কটি কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় ফেটে গেছে। সড়কের পাশে পুকুর রয়েছে। পুকুরগুলোর পাড় থেকে সড়কের পাশের মাটি ধসে পড়ছে। সড়কটির নিচু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে অত্যন্ত খারাপ অবস্থা হয়ে পড়ছে। সড়কের সমস্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ইটের ভাটার ট্রাক এবং ওভারলোডের কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো দ্রত ঠিক করে দেওয়া হবে।

ঠিকাদার মো. মইনউদ্দিন বলেন, সড়কটি রুরাল সড়ক। মাটির সমস্যা রয়েছে। এজন্য এমনটা হয়েছে। সমস্যাগুলো ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। সড়কটিতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ঠিক নয়। অ্যাজ পার স্পেসিফিকেশন সড়কটির কাজ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ সোনার বাংলা নিউজ ২৪
কারিগরি কালের ধারা ২৪